দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জুলাইয়ে জাপানের সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। তবে এ সময়ে রফতানি আদেশ ও পর্যটকের সংখ্যা কমায় কিছুটা চাপও তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের চূড়ান্ত জরিপ অনুযায়ী, জুলাইয়ে জাপানের সেবা খাতের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৬-এ, যা জুনে ছিল ৫১ দশমিক ৭। জুলাইয়ে পিএমআই মান ছিল ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
জরিপে বলা হয়েছে, দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নতুন সেবা আদেশ তিন মাসের মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়েছে। তবে একই সময়ে নতুন রফতানি আদেশ ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো কমেছে এবং এটি গত তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে নেমে গেছে। জুলাইয়ে ভূমিকম্পের আশঙ্কা পর্যটক সংখ্যা হ্রাসের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জরিপে অংশ নেয়া কিছু কর্মকর্তা।
জুলাইয়ে সেবা খাতে কর্মসংস্থান আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে টানা ২১ মাস ধরে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল, তা থেমে গেছে। জরিপে অংশ নেয়া অনেক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শ্রমিক সংকট ও বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে পারছে না।
জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। এ সময়ে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও অন্যান্য ইনপুট খরচ ১৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্য ও সেবার বিক্রয়মূল্য বা আউটপুট খরচের বৃদ্ধিও গত নয় মাসে সর্বনিম্ন ছিল।
জরিপের তথ্য থেকে জানা গেছে, উৎপাদন ও সেবা খাত মিলিয়ে যৌথ ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (পিএমআই) জুলাইয়ে সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬-এ। জুনে এটি ছিল ৫১ দশমিক ৫।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের অর্থনৈতিক সহযোগী পরিচালক আনাবেল ফিডেস বলেন, ‘জুলাইয়ে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও উৎপাদন খাত আবারো সংকোচনে পড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি জাপানি কোম্পানিগুলোর আস্থা ও ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।’